• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

জলঢাকায় চির নিদ্রায় শায়িত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী

সিসি নিউজ।। ঢাকার উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত মাইলস্টোন স্কুল এ- কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়া গ্রামে। চলতি মাসের ২৮ তারিখ তার বাড়িতে আসার কথা ছিল। যোগ দেওয়ার কথা ছিল গ্রামের বগুলাগাড়ি স্কুল এ- কলেজের অভিভাবক সমাবেশে। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই সোমবার ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এ- কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে আহত হলে রাতে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা থেকে তাঁর মৃতদেহ পৌঁছে বাড়িতে।
বেলা চারটার দিকে গ্রামের তাঁর সেই প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বগুলাগাড়ি স্কুল এ- কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় পারিবারিক কবরস্থানে। এসময় উত্তরায় ওই দূঘর্টনার সময় নিজের জীবন বিপন্ন করে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী ওই মহীয়সী শিক্ষকের জানাজায় শরিক হন আত্মীয়, স্বজনসহ অসংখ্য মানুষ।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বগুলাগাড়ি স্কুল এ- কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা শোক সভা ও দোওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতির অকাল মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করাহয় প্রতিষ্ঠানের।
ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়ি এসে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছার সঙ্গে ঢল নামে শোকাহত মানুষের। দূর্ঘটনার সময় নিজ প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদানকারী মাহেরিনকে এক নজর দেখতে ভীর জমে সেখানে। পরে জানাজা শেষে বিকাল চারটার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয় তাঁকে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মরহুম মোহিতুর রহমান চৌধুরী ও ছাবেরা চৌধুরী দম্পত্তির বড় সন্তান মাহেরিন চৌধুরী । তারা দুই ভাই ও দুই বোন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ২০০২ সালে মাইলস্টোন স্কুল এ- কলেজে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। বিয়ে হয়েছিল ২০০৮ সালে শরিয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চর আত্রাই গ্রামের মনছুল হেলালের সঙ্গে। স্বামী ঢাকার একটি কম্পনাীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তাদের রয়েছে দুই ছেলে সন্তান। এরমধ্যে বড় ছেলে আইয়ান রশিদ মিয়াজ ‘ও’ লেভেল পাশ করেছে। আর ছোট ছেলে আদিল রশিদ মাহিদ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দিবে। মাহেরিনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী ২০১৪ সালে ২৮ডিসেম্বর ও মা ছাবেরা চৌধুরী ২০২০ সালে ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
মাহেরিনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ৬জুন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকার শাহিন স্কুল এ- কলেজ থেকে এসএসসি ও ১৯৯৭ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করেন।
বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুস ছামাদ জানান, মাহেরিনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল রওশন আরা। সেদিক থেকে মাহেরিন চৌধুরী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।
বগুলাগাড়ি স্কুল এ- কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মহুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে তিনি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এডহক কমিটির সভাপতি হন। তিনি ২২জুন প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিক নির্দেশনা দেন। ২৮জুলাই অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার তাঁর উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। সোমবার ওই দূর্ঘটার আগে দুপুর ১২টার দিকে মুঠোফোনে আমার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এসময় ওই অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে আমাকে জানিয়েছিলেন’।
প্রতিবেশি আব্দুস সাত্তার (৪৫) বলেন, ‘মাহেরীন চৌধুরীরা গ্রামের বাড়িতে থাকেন না ঠিকই। কিন্তু বিভিন্ন ঈদে পর্বে আসেন। শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা- পরিচালনা করেন। যে কলেজে তিনি সভাপতি হয়েছেন, ওই কলেজটি তাদেরই দাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।’
মাহেরীন চৌধুরীর বাড়ির সামনে প্রসস্ত উঠান। সামনে মসজিদ। বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে বগুলাগাড়ি স্কুল এ- কলেজ। কলেজের অদূরে পশ্চিম দিকে পারিবারিক কবরস্থান। সারিবদ্ধভাবে সাজানো বাবা মায়ের একটি কবর পরেই তাকে দাফন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ